পদ্না সেতু, একজন বিশেষ ব্যাক্তি এবং বাংলাদেশ ।

পদ্না সেতু, পদ্না সেতু, পদ্না সেতু, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যে বিষয়টি বর্তমানে বহুল আলোচিত তা হল “পদ্না সেতু” । দেশের আর্থ-সামজিক উন্নয়নে পদ্না সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালান করবে এ কথা নিশ্চিত । সাথে সাথে এ কথাটিও নিশ্চিত যে পদ্না সেতু নির্মান করতে পারলে আওয়ামীলীগ সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতিহারেরে অনেক বড় একটি অংশ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে ।দেশের উন্নয়নের জন্যই হোক, নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্যই হোক আর যে কারনেই হোক, সেতুটি নির্মান হলে দেশরে উন্নয়ন হবে এ কথা নি:সন্দেহেই বলা যায় ।

এই পদ্না সেতুর নাম শুনলেই যে বিষয়টি চোখের সামনে বার বার ভেসে আসে সেটি হল “বিশ্ব ব্যাংক” ।আমরা তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল এবং দরিদ্র দেশ । যে দেশটির বড় বড় উন্নয়নমুলক কাজ করতে হলে প্রয়োজন হয় দাতা সংস্থাদের ঋনের । হ্যা, আমরা দাতা সংস্থাদের নিকট থেকে ঋন নেই কিন্তু ভিক্ষা নেই না । ঋন প্রদানের মাধ্যমে তারাও তাদের যথেষ্ট স্বার্থ উদ্দার করেন । বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দাতা সংস্থা এই বিশ্ব ব্যাংক । তারা তাদের সিদ্বান্ত জানিয়ে দিয়েছে পদ্না সেতু নির্মানে তারা ঋন দিবে না । কেন ঋন দিবে না ? আমরা কি তাদের এই ঋন পরিশোধ করতে পারব না । আসলে কারণ তা নয় । কারণ হিসাবে বিশ্ব ব্যাংক দেখিয়েছে দূর্নীতি । হ্যা এই দূর্নীতি আমাদের দেশে একটি ব্যধিতে পরিণত হয়েছে যা এ দেশের অনেক ক্ষমতাশীল ব্যাক্তিদের ( মন্ত্রী, এমপি, অসাধু ব্যবসায়ী ) রক্তের সাথে মিশে গেছে ।কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞরা এই ঋন বন্ধের জন্য যে কারণটিকে দায়ী করছেন, সেটি হচ্ছে “ ড.ইউনুসের প্রতি সরকারের বিরুপ মনোভাব” ।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে অবাক হলাম । তিনি বললেন “বিশ্ব ব্যাংক যে কোন একজন বিশেষ ব্যক্তির কারনে ঋন প্রদান বন্ধ করে দিবে, তা আগেই জেনেছিলাম” ।সাধুবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শীতাকে ।কিন্তু প্রশ্ন জাগে আপনি যদি আগেই জানতেন কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়াবে তাহলে ড.ইনুসকে নিয়ে এই ছেলে খেলার কোন মানে ছিল না । ধরে নিলাম ব্যক্তি হিসাবে ড.ইউনুস রক্তচোষা মহাজন, সুদের ব্যবসায়ী । তার ব্যক্তিত্ব যাই হওক ।সারা পৃথিবীর কাছেতো তিনি পরিচিত শান্তিতে নোবেল বিজয়ী একজন সফল অর্থনীতিবীদ হিসাবে ।বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে পরিচয় করিযে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যে অবদান রেখেছেন তা কি অস্বীকার করতে পারবেন ? অবশ্যই না । এই একজন মানুষের পেছনে লেগে ১৬ কোটি মানুষের উন্নয়নের স্বপ্ন যে আজ হুমকির সম্মুখীন । তা নিশ্চই এত দিনে টের পেয়েছেন ।যাই হোক, এই বিষয়ে আর বলব না।

বিশ্ব ব্যাংক পদ্না সেতু তৈরিতে ঋন দিতে অস্বীকার করেছ । অন্যান্য দাতা সংস্থারাও বিশ্ব ব্যাংকের সাথে গলা মিলিয়ে বলছে “ বিশ্ব ব্যাংকের সাথে বিরোধ নিস্পত্তি না হলে তারাও ঋন দিবে না” ।পরিস্তৃতি যখন এই, তাহলে আমরা নিজেস্ব অর্থায়নে পদ্না সেতু গড়ব ।কিন্তু সমস্যা হল বাংলাদেশেতো শুধু পদ্না সেতুই না আরো হাজারো উন্নয়নমুলক কাজ করতে হবে ।আর আমরা এত সমৃদ্ব জাতি নয় যে নিজেদের অর্থায়নে সব কাজই করতে পারব ।কিন্তু বর্তমানে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারনা জন্ম নিয়েছে , তার একটি দীর্ঘমেয়াদী ফল ভোগ করতে হবে এটা নি:সন্দেহেই বলা যায় ।

তাই সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব ড. ইউনুসের ব্যপারটি মীমাংসা করা এবং বিশ্ব ব্যাংকের সাথে আলোচনায় বসে দূর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগগুলোর সুরাহা করা ।আর দূর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের সাথে আমাদের খুব বেশী ঘাটাঘাটি করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না । কারণ আমাদের মন্ত্রী মহোদয় যে ধূয়া তুলশী পাতা নয়, এ কথা সবারই জানা ।

আর দেশীয় অর্থায়নে যেহতু পদ্না সেতুর কাজ শুরু হবে । তই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্ববানে প্রায় দেশের সব শ্রেণীর মানুষই সাড়া দিয়েছে ।গৃহীণি, স্কুল ছাত্র-ছাত্রী, শ্রমজীবী মানুষ সাবাই পদ্না সেতুর জন্য সাধ্যমত অর্থ প্রদান করবে ।কিন্তু সরকারকে নিশ্চয়তা দিতে হবে শ্রমজীবী মানুষদের কষ্টের টাকাগুলো যেন আবুল সাহেবদের পেটে না যায় ।তাহলে দেশের প্রত্যেকটি মানুষের বহু দিনের আকাঙ্খা এই পদ্বা সেতু হয়ত অচিরেই বাস্তবায়িত হওয়ার পথ দেখবে ।

Advertisements

2 thoughts on “পদ্না সেতু, একজন বিশেষ ব্যাক্তি এবং বাংলাদেশ ।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s